শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ। বাড়ির বড়রা বলছেন, “এবার ভাতের মাড় দে।” দাদি বলছেন, “আগে একটু মিষ্টি পানি, তাহলে খেতে শিখবে।” দুটোই ভালো উদ্দেশ্য থেকে বলা, কিন্তু দুটোই ঠিক নয়।
শুরু করার সময় কীভাবে বুঝবেন
বয়স ছয় মাস একটা হিসাব, তবে শিশু নিজেও কিছু সংকেত দেয়। সে সাহায্য ছাড়া বসতে পারে, মাথা ধরে রাখতে পারে, খাবারের দিকে আগ্রহ দেখায় আর জিভ দিয়ে খাবার ঠেলে বের করে দেয় না। এই লক্ষণগুলো থাকলে শুরু করা যায়।
প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ — এটাই নিয়ম। ছয় মাসের আগে পানি, রস বা অন্য কিছু দিলে শিশুর পেট ভরে যায়, আর বুকের দুধ কম খায়।
প্রথম দিন: এক-দুই চামচ
প্রথম দিনে বড় কিছু করার দরকার নেই। এক-দুই চামচ নরম ভাতের মাড়, বা চাল গুঁড়ো করে পাতলা করে রান্না করা। চামচে করে মুখের সামনে ধরুন, শিশু নিজে থেকে মুখ খুললে দিন।
প্রথম কয়েক দিন শিশু খাবে না, মুখ বাঁকাবে, বের করে দেবে — এটাই স্বাভাবিক। ওর কাছে এটা পুরো নতুন একটা ব্যাপার। জোর করবেন না, প্রতিদিন অল্প অল্প চেষ্টা করুন।
প্রথম দুই সপ্তাহের ছক
- দিন ১–৩: দিনে একবার, এক-দুই চামচ নরম ভাতের মাড়।
- দিন ৪–৭: দিনে একবার, দুই-তিন চামচ। মাঝে মাঝে মসুর ডালের ঝোল মিশিয়ে দিন।
- দিন ৮–১৪: দিনে দুইবার, কয়েক চামচ। সবজি সিদ্ধ করে চটকে দিতে পারেন।
নিয়ম একটাই — বুকের দুধ আগের মতোই চলবে। খাবার বুকের দুধের বিকল্প নয়, বাড়তি।
মাস অনুযায়ী কী বদলাবে
৭–৮ মাসে দিনে দুই-তিনবার খাবার, আর মাঝে নরম ফল বা সিদ্ধ সবজি হাতে ধরিয়ে দেওয়া। এ সময় শিশু নিজে হাতে খেতে শেখে — মেঝে নোংরা হবে, এটাই শেখার অংশ।
৯–১১ মাসে খাবারের টেক্সচার একটু মোটা হবে। ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ, ডিম, সবজি — কাঁটা ছাড়া মাছ ভালোভাবে দেখে দিন।
১২ মাসের পর পরিবারের সাধারণ খাবারের কাছাকাছি, তবে আলাদা করে কম লবণ আর কম ঝালে রান্না করা।
যা দেওয়া যাবে না
- লবণ আর চিনি। এক বছরের আগে অতিরিক্ত লবণ কিডনির জন্য ভালো নয়, চিনি দাঁত আর অভ্যাসের জন্য।
- মধু। এক বছরের আগে মধু একেবারেই নয় — এতে শিশুর জন্য বিপজ্জনক জীবাণু থাকতে পারে।
- গরুর দুধ পানীয় হিসেবে। এক বছরের আগে প্রধান পানীয় হিসেবে নয়; রান্নায় অল্প ব্যবহার করা আলাদা কথা।
- গোটা বাদাম, আঙুর, শক্ত ক্যারেল। শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।
- বোতলে চিনিযুক্ত পানীয় বা প্যাকেটের জুস। এগুলো ক্ষুধা কমায়, পুষ্টি দেয় না।
হাত ধোয়া আর পরিষ্কার বাটি-চামচ
শিশুর খাবার বানানোর আগে হাত ধুবেন, বাটি-চামচ ভালোভাবে ধুবেন। ছোট শিশুর পেট সংক্রমণে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে — ডায়রিয়া হলে নবজাতকের যত্ন লেখাটার মতোই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।
টিকার সময়সূচি নিয়ে টিকার লেখাটা দেখে রাখুন — এই সময়টাতেই বেশিরভাগ টিকা পড়ে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
শিশু খেতে চায় না, কী করব?
জোর করবেন না। খাওয়ানোর সময় টিভি বা মোবাইল বন্ধ করুন, একসঙ্গে বসে খান। একই খাবার কয়েক দিন পরে আবার দিন — নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হতে সময় লাগে।
বুকের দুধ কি কমিয়ে দেব?
না। এক বছরের আগে বুকের দুধই প্রধান খাবার থাকে। শক্ত খাবার তার পাশে বাড়তি।
ডিম কখন থেকে দেওয়া যায়?
৬ মাস পূর্ণ হলে অল্প দিয়ে শুরু করা যায় — ভালোভাবে সিদ্ধ করা ডিমের কুসুম বা সাদা অংশ। প্রথমবার দিয়ে দুই-তিন দিন লক্ষ্য রাখুন, অ্যালার্জির লক্ষণ আছে কি না।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। শিশুর ওজন বা বৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ থাকলে টিকা কার্ডে দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মী বা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।